
রাজধানীসহ সারাদেশে ভূমিকম্পের ঘটনায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শেরেবাংলা ফজলুল হক হল হেলে পড়েছে।
শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকালে ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কে রুমের বাইরে বেড়িয়ে আসে শিক্ষার্থী। পরে হলের পশ্চিমদিকের একটি ব্লক কিছুটা হেলে পড়েছে বলে বোঝা যায়।
এছাড়া হলের বিভিন্ন জায়গায় ফাটল ধরতেও দেখা যায়। ঝুঁকিপূর্ণ হল থেকে স্থানান্তরের দাবি জানিয়ে তাৎক্ষণিক উপাচার্যের বাসভবনে অবস্থান করে হলে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা।
দাবির মুখে হলে পরিদর্শনে আসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই উপ-উপাচার্য, প্রক্টর, হল প্রভোস্ট। এসময় রাকসুর এজিএস সালমান সাব্বিরও উপস্থিত ছিলেন। হলের সার্বিক পরিস্থিতি দেখে জুমার নামাজের পর হল প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত জানানোর কথা বলেন তারা।
উপ-উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন খান বলেন, আজকে যা দেখলাম হলের অবস্থা খুবই খারাপ৷ তিন তালা ভিজিট করে দেখলাম কিছু জায়গা খসে পড়েছে এবং ফাটলও ধরেছে কিছু জায়গায়৷ মনে হচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ। জুমার নামাজের পর আমরা ভিসি স্যার সহ বসবো, এরপর আমরা দেখি কী সিদ্ধান্ত জানানো যায়।
শেরে বাংলা ফজলুল হক হল সংসদের ভিপি মো. রানা হোসাইন বলেন, হল নিয়ে ইতোমধ্যে অনেক রিপোর্ট টেকনিক্যাল টিমের পর্যবেক্ষণ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সরেজমিনে এসে দেখে গিয়েছেন আমরা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ এক পরিবেশে বসবাস করছি। আজ ভূমিকম্পে হল বিল্ডিং হেলে গিয়েছে সেটা আমাদের সুস্পস্ট আরো সতর্ক বার্তা যে এই হলে আর বসবাসের মত কোন পরিবেশ নেই। যত দ্রুত আমরা এখান থেকে স্থানান্তর হতে পারব সেটাই আমাদের জন্য ভালো হবে। তবুও কেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন না? আপনারা কি চান ২৫০/৩০০ জন শিক্ষার্থীর লাশ হয়ে বের হোক? তারপর আপনাদের টনক নড়বে নাকি?
শেরে বাংলা হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, ভূমিকম্পের পর আমরা পরিদর্শনে গিয়ে অসংখ্য নতুন ফাটল দেখতে পেয়েছি। এই অবস্থায় শিক্ষার্থীরা নিরাপদ নয়। জুমার নামাজের পর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে শিক্ষার্থীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেব।
উল্লেখ্য, গত ২৯ অক্টোবর শেরে বাংলা ফজলুল হক হল পুনর্নির্মাণের সিদ্ধান্ত জানায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে হলে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের কোথায় স্থানান্তর করা হবে এ বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত এখনও জানানো হয়নি।
Leave a Reply