
নেইমার কি বিশ্বকাপে খেলতে পারবেন? প্রশ্নটা শুনতে যত সহজ, উত্তর মোটেই তত সহজ নয়। অনেক ‘যদি’ ও ‘কিন্তু’র ওপর নির্ভর করছে এ প্রশ্নের উত্তর। প্রথমত, বিশ্বকাপের সময় নেইমার কি ফিট থাকবেন? এ প্রশ্নের উত্তর যদি ‘হ্যাঁ’ হয়, তবে সম্পূরক হিসেবে উঠে আসবে আরও কিছু প্রশ্ন। ফিট নেইমার কি তখন ছন্দে থাকবেন কিংবা ছন্দে থাকা নেইমার কি কার্লো আনচেলত্তির পরিকল্পনায় থাকবেন?
সময়ের হাতে ছেড়ে দেওয়া ছাড়া এসব প্রশ্নের আপাতত সঠিক উত্তর পাওয়ার সুযোগ নেই। কারণ, খেলোয়াড়টির নাম যখন নেইমার, তখন শেষ মুহূর্তে বদলে যেতে পারে অনেক কিছু। আপাতত ব্রাজিল–সমর্থকদের প্রার্থনা হচ্ছে, নেইমার যেন খুব দ্রুত পুরোপুরি ফিট হয়ে ওঠেন। তাহলে অনেক কিছুই হয়তো তুলনামূলক সহজ হবে।
যদিও পথটা নেইমারের জন্য মোটেই সহজ নয়, সাম্প্রতিক কিছু খবরেই তা স্পষ্ট।
আনচেলত্তির অধীন বিশ্বকাপ সামনে রেখে ব্রাজিল এখন নিজেদের অনেকটাই গুছিয়ে নিয়েছে। দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সেও দেখা গেছে সেই ছাপ।
ছান্দসিক, গতিময় ও ফলনির্ভর ফুটবলই এখন খেলছে ব্রাজিল। দলের একাদশও এরই মধ্যে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। বিশেষ করে আক্রমণের খেলোয়াড়েরা দারুণ ছন্দে আছেন। যাঁরা বেঞ্চ থেকে শুরু করছেন, তাঁরাও যথেষ্ট সামর্থ্যবান। এমন দলে জায়গা পেতে নেইমারকে নিজের সেরাটা দিয়েই ফিরতে হবে। বিষয়টা স্পষ্ট হয়েছে আনচেলত্তির মন্তব্যে।
তিউনিসিয়ার বিপক্ষে আজ রাত ১টা ৩০ মিনিটে মাঠে নামার আগে সংবাদ সম্মেলনে আনচেলত্তি বলেছেন, ‘যারা বিশ্বকাপে থাকতে পারে, সেই তালিকায় নেইমার আছে। নেইমার এখন সুস্থও। এখন তাকে মাঠে পারফরম্যান্স দেখিয়ে নিজেকে প্রমাণ করতে হবে।’
নেইমারকে ছয় মাস সময় বেঁধে দিয়ে গতকাল আনচেলত্তি আরও বলেন, ‘ব্রাজিলিয়ান লিগ শেষ হলে তার কিছুদিন ছুটি থাকবে। এরপর আবার তাকে নিজের যোগ্যতা, মান ও ফিটনেসের প্রমাণ দিতে হবে। চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করার আগে আমাদের হাতে ছয় মাস সময় আছে। দলে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন কি না, তা জানতে আমরা নেইমারসহ সবাইকে পর্যবেক্ষণ করব। আমরা চেষ্টা করছি যেন দলটি বিশ্বকাপের সময় সেরা অবস্থায় থাকে। আমরা সঠিক পথে এগোচ্ছি। মার্চ পর্যন্ত আমি খেলোয়াড় বদলাতে পারব। আমি বিশ্বাস করি, যারা শেষ পর্যন্ত দলে থাকবে, তারা সবাই টুর্নামেন্টের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত থাকবে।’
Leave a Reply